ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ১ ১৪৩১

উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে নেই ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৫৩, ২০ জুলাই ২০২৩  

উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে নেই ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন

উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে নেই ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন

দেশের সর্বকনিষ্ঠ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এখন আর পিছিয়ে নেই। ২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর স্থাপিত এ সিটি করপোরেশন। ২০১৯ সালের মে মাসের নির্বাচনে প্রথম নির্বাচিত পরিষদ একই মাসের ২৭ তারিখ শপথ গ্রহণ করে। সে হিসেবে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত পরিষদ তার যাত্রার ৪ বছর পূরণ করেছে। বিলুপ্ত পৌরসভার সীমিত জনবল, দুর্বল অবকাঠামো ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থেমে নেই। এ মুহূর্তে দেশের নবিনতম এই সিটি করপোরেশনের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে মূল সড়ক ও ওলি- গলিতে চলছে সড়ক-ড্রেনের নির্মাণকাজ। ময়মনসিংহ শহরে বর্তমান সময়ে যে পরিমাণ উন্নয়ন কাজ হয়েছে তা ইতোপূর্বে কখনো দেখা যায়নি।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সড়ক-ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মাণ ও নাগরিক সেবা উন্নত করণে সরকারি বরাদ্দের ১৫৭৫ কোটি টাকা প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এতে তৈরি হচ্ছে ৯০ কিলোমিটার বিসি রোড, ১৬১ কিলোমিটার আর.সিসি রোড, ১.৬১ কিলোমিটার সিসি রোড, ১৭৯ কিলোমিটার ড্রেন, ৯.৬৬ কিলোমিটার পাইপ ড্রেন, ১০ কিলোমিটার ফুটপাত। আরো রয়েছে কালভার্টসহ অন্যান্য অবকাঠামো। এছাড়াও সিটি করপোরেশনের অন্যান্য প্রকল্প থেকে ইতোমধ্যে ৯২ কিলোমিটার নতুন রাস্তা এবং ৪৫ কিলোমিটার ড্রেনেজ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে পরিবর্তন টা নগরবাসীর চোখে পড়ছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ২২ থেকে ৩৩ নং ওয়ার্ড, যেগুলো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যুক্ত হয়েছে, সেগুলোতে প্রসস্ত রাস্তা ও ড্রেনগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে। প্রত্যন্ত অনেক ওয়ার্ডে চলাচল ছিল কষ্টসাধ্য, তা এখন উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে। শহর আলোকিত করণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়। এ সিটিতে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় ১৮১ কিলোমিটার সড়কে পোলসহ আধুনিক এলিডি বাতি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে শুধু শহরই নয়, নতুন অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ডগুলোও অনেকাংশে আলোকিত করতে সক্ষম হয়েছে গত কয়েক মাসে। এসব সড়ক উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু। শহরের প্রবেশ পথে হাইওয়েগুলোতেও নান্দনিক সড়ক বাতি সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পরিষদের উত্তরণে নগরবাসীর কাছে যে বিষয়টি নজড় কেড়েছে তা হলো বর্জ্য ব্যবস্হাপনা। বিলুপ্ত পৌরসভার জনবল নিয়েও প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টন বর্জ্য অপসারণ করছে বর্তমান কার্যকরী পরিষদ। বাসা বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে ক্লিন সিটি নামক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির কথাও জানায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও প্রিজম ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নির্মাণ করা হচ্ছে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। আবার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পটিও অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেয়র টিটু মানুষকে নিরাপদে রাখা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর কাজে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন।
সরকারি এবং সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ১৩২৭ টন চাল এবং ৬৫ লাখ টাকার খাদ্য সহায়তা ছাড়াও তিনি নিজ উদ্যোগে লক্ষাধিক প্যকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন অসহায় মানুষের মাঝে। করোনার টিকা প্রদানেও সিটি মেয়রের উদ্যোগ ছিল আলোচিত। প্রারম্ভিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১৯২ জনকে বিউটি পার্লার, কম্পিউটার, ড্রাইভিৎ, মোবাইল সার্ভিস, ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও ২৫৭৬ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি, ১৪৭৬ জনকে পুষ্টি সহায়তা, ৩১২ জন কিশোরীকে স্বাস্থ্যপুষ্টি পরামর্শ ও পুষ্টি উপকরণ প্রদান করেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নলকূপ, রোড লাইট, ড্রেন, টয়লেট, সেপটিক ট্যাৎক ইত্যাদি নির্মাণের মাধ্যমে সহযোগিতা প্রদান করা হয়। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ৫০০০ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বয়স্ক ভাতা কার্ড।
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে জনতার মেয়র ইকরামুল হক টিটু, শম্ভূগঞ্জ ব্রিজের কাছে স্থাপন করেন জয়বাংলা চত্তর, যা মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্মরণে অনন্য স্থাপত্যে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও নগরীর টাউন হলে স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু গ্যালারি। যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী বঙ্গবন্ধুর দুর্লব ছবি, ডকুমেণ্টারি, বাণি ইত্যাদি দেখার সুযোগ পায়।
ময়মনসিংহ নগরবাসীর অসুবিধা লাঘবে বেশকিছু সেবাকে অনলাইনে আনা হয়েছে। সিটি করপোরেশনকে ৩ টি অঞ্চলে বিভক্ত করে জন্ম নিবন্ধন, মসক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ইত্যাদি কাজের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। যেখানে নাগরিকদের শ্রম ও সাশ্রয় হয়েছে। নগরীর ভাটিকাশর, আকুয়া, গুলকী বাড়ি কবরস্থান এবং শম্ভুগঞ্জ শ্মশানঘাটের উন্নয়ন করা হয়েছে।
চলমান উন্নয়ন প্রসঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্নে ময়মনসিংহবাসীকে সিটি করপোরেশন উপহার দিয়েছেন, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। করোনা মহামারী ও বৈশ্বিক সংকট আমাদের গতিকে কিছুটা স্লথ করে দিলেও আমরা নগর বাসীর উন্নয়নে পিছিয়ে নেই। ময়মনসিংহ সিটিকে একটি আধুনিক ও টেকসই নগরী করতে একটি বাস ও ট্রাক স্ট্যাণ্ড, শিশু পার্ক, নগর ভবন ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আছি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর প্রত্যাশা বহুলাংশে পূরণ হবে বলে মনে করি।

আরও পড়ুন
সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়