ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ আগস্ট ২০২১ ||  শ্রাবণ ২০ ১৪২৮

এলএসডি-ডিএমটিসহ গ্রেফতার: রিমান্ডে ৪ জন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৩, ২৯ জুন ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন এলাকা থেকে নতুন ধরনের ভয়ংকর দুই মাদক এলএসডি ও ডিএমটিসহ গ্রেফতার চার শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. শাহিনুর রহমানের আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ ওরফে শাদাব, স্বপ্নীল হোসেন, আব্রাহাম জোনায়েদ তাহের, সিমিয়ন খন্দকার। 

এদিন চার আসামিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদন পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামি সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ ওরফে শাদাব ও স্বপ্নীল হোসেনের দুই দিন এবং আসামি আসামি আব্রাহাম জোনায়েদ তাহের ও সিমিয়ন খন্দকারের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে, গত শনিবার রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার লাভ রোডে অভিযান চালিয়ে এলএসডি, ডিএমটিসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪০ ব্লুট এলএসডি, ৬০০ মিলিগ্রাম ডিএমটি, ৬২ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। 

আসামিদের মধ্যে দুজন বিদেশে লেখাপড়া করে এসেছেন। অপর দুজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রথমবারের মতো ডিএমটি উদ্ধার হলো। এলএসডির চেয়ে ভয়ংকর এই মাদক। এটা সেবনে হ্যালুসিনেশন হয়। এটি মুখ দিয়ে এলএসডি সেবনের মতো, যা ধোঁয়ার মাধ্যমে শ্বাস নিয়ে বা ইনজেকশনের মাধ্যমে নেওয়া যায়। এটি সেবনের পর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট গভীর হ্যালুসিনেশন হয়। হ্যালুসিনেশন হয় দ্রুত এবং সেবনকারীরা কল্পনার জগতে চলে যান। এই মাদক থেকে মারাত্মক দুর্ঘটনা, এমনকি জীবননাশও হতে পারে।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-২–এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, এলএসডির মতো ডিএমটিও পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, সমুদ্রসৈকত, পাহাড়ি রিসোর্ট বা কোনো বিনোদনকেন্দ্রে প্রকৃতির কাছে গিয়ে এই মাদক সেবন করতেন তারা।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ ওরফে শাদাব রাজধানীর উত্তরার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ‘এ’ লেভেল করার পর ভারতে যান। দার্জিলিংয়ে ২০১৩ সালে ‘ও’ লেভেল শেষ করে। এরপর ২০১৫ সালে তিনি ব্যবসায় প্রশাসনে (বিবিএ) পড়ার জন্য থাইল্যান্ডে যান। এক বছর থাইল্যান্ডে বিবিএ পড়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সঙ্গে এলএসডি ও ডিএমটি মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। পরে বাংলাদেশে ফিরেও তিনি ওই মাদক সেবন ও সংগ্রহ করতে থাকেন। 

তিনি এই মাদক বিদেশ থেকে বিভিন্ন পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে নিয়ে আসেন। নিজে সেবন ও বিক্রি করতেন তিনি। আব্রাহাম জোনায়েদও ঢাকার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ‘এ’ লেভেল শেষ করে মালয়েশিয়ায় যান। ২০১৫-১৬ সাল পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান। সেখানে তিনি নিয়মিত এলএসডি ও ডিএমটি সেবন করতেন। 

ইংল্যান্ডে এমবিএ শেষ করে ২০২০ সালে দেশে ফিরে আসেন। আব্রাহাম জোনায়েদ বাংলাদেশে এসেও নিয়মিত এলএসডি ও ডিএমটি সেবন এবং বিক্রি করছিলেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার স্বপ্নিল হোসেন ও সিমিয়ন খন্দকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছেন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়