ঢাকা, মঙ্গলবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৮ ১৪২৯

নবদিগন্তের সূচনা চট্টগ্রাম বন্দরে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৯, ১৬ জানুয়ারি ২০২৩  

নবদিগন্তের সূচনা চট্টগ্রাম বন্দরে

নবদিগন্তের সূচনা চট্টগ্রাম বন্দরে

দেশের অর্থনীতির পাইপলাইন চট্টগ্রাম বন্দরে সূচনা হচ্ছে নতুন দিগন্তের। বন্দরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নোঙর করবে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ। এতে করে বেশি কনটেইনার নিয়ে বন্দরে ভিড়বে বড় বড় জাহাজ। ফলে বন্দরে বাড়বে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ। কমবে পরিবহন ব্যয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৃদ্ধি পাবে চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম। 

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ নোঙরের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। সোমবার (আজ) নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জাহাজের বার্থিংয়ের উদ্বোধন করবেন। বড় দৈর্ঘ্যরে জাহাজ ভেড়ার মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আগে ২ হাজার ৪০০ কনটেইনার নিয়ে জাহাজ প্রবেশ করলেও এখন ৩ হাজার কনটেইনার নিয়ে জাহাজ ভিড়তে পারবে। সর্বোপরি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।’ 

জানা গেছে, এতদিন চট্টগ্রাম বন্দরে ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ প্রবেশ করত। এ জাহাজগুলোতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ কনটেইনার পরিবহন করতে পারত। বড় জাহাজ ভেড়ানোর জন্য আট বছর ধরে কর্ণফুলীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু ও মাটি অপসারণ করে গভীরতা বাড়ানো হয়। এরপর পানির গভীরতা এবং জোয়ারের উচ্চতা হিসাব করে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে দৈর্ঘ্যে ১৬০ মিটার ও ৭ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ নোঙরের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে কিছু সংস্কার করে ১৯৮০ সালে ১৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৮ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফট, ১৯৯০ সালে ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৮ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফট, ১৯৯৫ সালে ১৮৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ দশমিক ২ মিটার ড্রাফট এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

আজ থেকে তা বেড়ে জাহাজের দৈর্ঘ্য ২০০ মিটার এবং ড্রাফট ১০ মিটারে উন্নীত হবে। নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বড় জাহাজ ভেড়ানোর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন। ড্রেজিং ব্যবস্থার আরও কিছু উন্নতি করে আগামীতে ২২৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১১ মিটার ড্রাফটের জাহাজ নোঙর করানোর পরিকল্পনা করছে বন্দর।

টানা সাত বছর দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা চট্টগ্রাম বন্দর কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে একের পর এক রেকর্ড ভঙ্গ করে আসছিল। বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরের সেরা ১ শ’র মধ্যে ঠাঁই হয় বন্দরের। শিপিং সংক্রান্ত সবচেয়ে পুরনো সংবাদ মাধ্যম লন্ডনভিত্তিক ‘লয়েডস লিস্টে’র সর্বশেষ তালিকায় ৬৪তম অবস্থানে ছিল বন্দর। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৪ টিইইউএস। ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ১৪ হাজার ৫৪৮ টিইইউএস। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২২ লাখ ৬১ হাজার ৩০২ টিইইউএস, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৫ লাখ ৪ হাজার ৪৭৬ টিইইউএস, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৮ লাখ ৯ হাজার ৩৫৪ টিইইউএস, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৯ লাখ ১৯ হাজার ২৩ টিইইউএস, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩০ লাখ ৪ হাজার ১৪২ টিইইউএস এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ২৩৬ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে চট্টগ্রাম বন্দর।

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়