ঢাকা, বুধবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ৯ ১৪৩০

রমজানে দিন ও রাতে স্ত্রীর সঙ্গে যা কিছু জায়েয

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৫৩, ১৭ মার্চ ২০২৩  

রমজানে দিন ও রাতে স্ত্রীর সঙ্গে যা কিছু জায়েয

রমজানে দিন ও রাতে স্ত্রীর সঙ্গে যা কিছু জায়েয

পবিত্র রমজান মাসে রোজারত অবস্হায় স্বামীর জন্য সহবাস ব্যতীত বা বীর্যপাত ব্যতীত স্ত্রীকে উপভোগ করা জায়েয আছে।

ইমাম বুখারি (১৯২৭) ও মুসলিম (১১০৬) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজা রেখে স্ত্রীকে চুম্বন করতেন; স্ত্রীর সঙ্গে মুবাশারা (আলিঙ্গন) করতেন। এবং তিনি ছিলেন তার যৌনাকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে সক্ষম ব্যক্তি।

উল্লেখ্য, মুবাশারা করতেন এ কথার অর্থ হচ্ছে- স্ত্রীর চামড়ার সঙ্গে তার চামড়া ছোঁয়ানো। যেমন- গালের ওপর গাল রাখা এবং এ জাতীয় কিছু।

উদ্দেশ্য হচ্ছে- চামড়ার সঙ্গে চামড়া লাগানো। এখানে মুবাশারা দ্বারা- সহবাস উদ্দেশ্য নয়।

শাইখ উসাইমীনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, রোজাদার স্বামীর জন্য রোজাদার স্ত্রীর সঙ্গে কী কী করা জায়েয?

উত্তরে তিনি বলেন, ফরজ রোজা পালনকারী স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর সঙ্গে এমন কিছু করা জায়েয হবে না; যাতে করে তার বীর্যপাত হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সব মানুষ এক রকম নয়। কারো বীর্যপাত দ্রুত হয়ে যায়; আবার কারো ধীরে ধীরে হয় এবং সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা রাখে। যেমনটি আয়েশা (রা.) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি ছিলেন স্বীয় যৌন চাহিদা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে সক্ষম ব্যক্তি।

আবার কিছু লোক আছে যারা নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না; তার বীর্যপাত দ্রুত হয়ে যায়। এমন ব্যক্তি ফরজ রোজা পালনকালে তার স্ত্রীকে চুম্বন করা, আলিঙ্গন করা ইত্যাদির মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ হওয়া থেকে তাকে সাবধান থাকতে হবে। আর যদি ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে জানে যে, সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে তাহলে তার জন্য স্ত্রীকে চুম্বন করা ও জড়িয়ে ধরা জায়েয আছে; এমনকি ফরজ রোজার মধ্যেও।

রমজানে সহবাস সম্পর্কে সূরা আল-বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়, রোজার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। আর পবিত্র কোরআনের এই আয়াত থেকে এটা প্রমাণিত হয়, রোজাদারের জন্য দিনের বেলা সহবাস হালাল করা হয়নি।

অতএব, সাবধান! সহবাসের ব্যাপারে সাবধান! রমজান মাসে যার ওপর রোজা রাখা ফরজ সে যদি দিনের বেলায় অর্থাৎ রোজারত অবস্হায় সহবাসে লিপ্ত হয় তাহলে তার ওপর পাঁচটি বিষয় অবধারিত হবে-

এক: গুনাহ।

দুই: রোজা ভেঙ্গে যাওয়া।

তিন: দিনের অবশিষ্ট অংশ পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত থাকা ফরজ। যেকোনো ব্যক্তি কোনো শরয়ি ওজর ছাড়া রমজানের রোজা ভঙ্গ করবে তার ওপর বিরত থাকা ও সেদিনের রোজা কাযা করা ফরজ।

চার: সেদিনের রোজা কাযা করা ফরজ। কারণ সে ব্যক্তি একটি ফরজ ইবাদত নষ্ট করেছে; যার কারণ তার ওপর এ ইবাদত কাযা করা ফরজ।

পাঁচ: কাফফারা দেওয়া। এ কাফফারা হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন কাফফারা: একজন কৃতদাস আজাদ করা। কৃতদাস না পেলে লাগাতর দুইমাস রোজা রাখা। সেটাও করতে না পারলে ৬০ জন মিসকীনকে খাবার খাওয়ানো।

আর যদি রোজাটি ফরজ রোজা হয় তবে রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসে; যেমন যে ব্যক্তি রমজানের কাজা রোজা পালন করছে; এমন রোজা ভঙ্গ করলে দুইটি বিষয় অবধারিত হবে: গুনাহ ও রোজাটি কাযা করা। আর যদি রোজাটি নফল রোজা হয় তাহলে কোনো কিছু আবশ্যক হবে না।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়