ঢাকা, শনিবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ||  আশ্বিন ৭ ১৪৩০

হবিগঞ্জে ভ্যাপসা গরমে বেড়েছে ডাব ও আনারসের কদর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০০, ২২ এপ্রিল ২০২১  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

হবিগঞ্জে ভ্যাপসা গরমে বেড়েছে আনারস ডাব ও তরমুজসহ ফলমূলের কদর। একদিকে বৈশাখের তীব্র গরম অন্যদিকে পবিত্র রমজান মাস হওয়ায় এসব ফলমুলের চাহিদা বেড়েছে সাধারণ জনসাধারণের মধ্যে। 

প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিকেলের পর থেকেই এসব ফল কিনতে ভিড় দেখা যায়। দোকানিরাও পাড়া মহল্লায় ভ্যানগাড়ি করে বিক্রি করছে এসব ফল। তবে রমজান মাস হওয়ায় ইফতারে তরমুজের পাশাপাশি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে আনারস। 

ক্রেতারা বলছেন, আনারস খুবই উপকারী একটি ফল। যা জ্বরসহ শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও ইফতারে আনারস অন্যরকম তৃপ্তি দেয়। তবে শুধু জেলা শহরেই নয় জেলার বাহুবল, মিরপুর, চুনারুঘাট, শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ ও চৌধুরী বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি দেদারছে বিক্রি হচ্ছে এসব ফল। 

সরেজমিনে শহরের চৌধুরী বাজার ও থানার মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, ভ্যান গাড়িতে আনারস, ডাব ও তরমুজের পসরা বসিয়ে আছেন বিক্রেতারা। সারা দেশে লকডাউন চলায় শহরের প্রধান রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে না পারলেও পাড়া মহল্লায় বাসায় বাসায় গিয়ে তারা এসব বিক্রি করছেন। তবে আনারসের মধ্যে শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি এলাকার আনারস বেশ জনপ্রিয় সাধারণ মানুষদের মধ্যে। দামে বেশি হলেও শ্রীমঙ্গলি আনারসই বেশি ক্রয় করতে দেখা যায় ক্রেতাদের মধ্যে। 

ক্রেতারা বলছেন, শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি এলাকার আনারসে রস বেশি খেতেও বেশি সুস্বাধু। তাই বেশিভাগ ক্রেতাই এ আনারস ক্রয় করছেন। দোকানিরা বলছেন, শ্রীমঙ্গলের আনারস প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। বড় সাইজের আনারস আবার বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। আবার একেবারে ছোট সাইজের আনারস বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। এছাড়াও তরমুজ ছোট সাইজের বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় এবং বড় সাইজের বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। 

তবে রমজানে আনারসের পাশাপাশি ডাবের কদর বেড়েছে কয়েকগুণ। ইফতারে ডাবের পানি পান করে রোজা ভঙ্গ করছেন অনেকেই। তাই ডাবেরও দাম বেড়ে গেছে। ছোট সাইজের প্রতি পিস ডাব বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় আর বড় সাইজের ডাব বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। 

আনারস বিক্রেতা রিয়াজ আহমেদ জানান, তিনি ভোররাতে আনারস কিনতে শ্রীঙ্গল গিয়েছিলেন। এখনও আনারস বাগানে না পাকায় বেশি দাম দিয়ে আনারস কিনে আনতে হচ্ছে তাদের। এছাড়াও লকডাউন থাকায় গাড়ি চলাচল না করায় ডাবল পরিবহন ভাড়া দিতে হচ্ছে তাদের। 

তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গলের আনারসের কদর বেশি থাকায় এখানকার আনারস এনে বিক্রি করি। ছোট সাইজের প্রতি হালি বিক্রি করছি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। 

আনারস বিক্রেতা ইমন আহমেদ জানান, লকডাউনে কাজ না থাকায় আনারস কিনে বিক্রি করছি। রমজানে ভালো বিক্রি হওয়ায় প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করছি। 

ডাব ও তরমুজ বিক্রেতা হৃদয় মিয়া জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার তরমুজ বিক্রি করে বেশ লাভবান হচ্ছি। কারণ রমজানে বেশ দামেই তরমুজ বিক্রি করতে পারছি। তবে ডাবের মূল্য বেশি হওয়ায় ও সরবরাহ কম থাকায় বেশি বিক্রি করতে পারছি না। 

ক্রেতা হারুন মিয়া বলেন, সারাদিন রোজা রেখে ফলমূল দিয়ে ইফতার করতে ভালো লাগে তাই আনারস ও তরমুজ কিনেছি। দাম যদিও একটু বেশি তবে এসব ফল দিয়ে ইফতারে বেশ তৃপ্তি পাই। 

আল আমিন বলেন, রোজার কারণে বৈশাখে দিনে খাওয়া না গেলেও ইফতারিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেশ আন্দঘন পরিবেশেই ফলমূল খাওয়া চলে। তবে হবিগঞ্জের বাজারে ফরমালিন ও বিষমুক্ত আনারস ও তরমুজ পাওয়ায় প্রতিদিনই এসব ফল কিনি। 

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়