ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৪ ১৪২৮

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৬৫টি ঘর দেয়া হয়েছে কিশোরগঞ্জে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫৯, ২০ জুন ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মুজিববর্ষে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে ৫৩ হাজার ৩৪০টি গৃহহীন পরিবারের মধ্যে একটি করে ঘর হস্তান্তর কাজের উদ্বোধন করেছেন। তিনি আজ ২০ জুন রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে গৃহ হস্তান্তর কাজের উদ্বোধন করেন এবং চার জেলার চারজন উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বলেন। এর অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে ৩৬৫টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে জেলায় আরও ২৬৬টি ঘর হস্তান্তরের জন্য নির্মাণাধীন আছে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন ঘোষণার পর সদর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলার কয়েকজন উপকারভোগীর হাতে ঘরের চাবি ও দলিল হস্তান্তর করা হয়। এর আগে সদর উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খানের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হয়। এতে জুম প্রযুক্তিতে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। এছাড়া সভাকক্ষে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও উপসচিব মো. হাবিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ আফজাল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদির মিয়া, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. আসাদ উল্লাহ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা কামাল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন, যশোদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার রায়, যশোদল ইউনিয়নের বীর দামপাড়ার উপকারভোগী শহর আলী ও মধূপাড়ার উপকারভোগী ফতেমা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সাত্তার ও মাছুমা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাগুফতা হক, বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কয়েকজন উপকারভোগী।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমেদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় গণভবনে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমার বাবার স্বপ্ন ছিল বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর। তিনি বাংলার প্রতিটি মানুষের খাদ্য ও আশ্রয়সহ মৌলিক অধিকারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশর মানুষ কেবল বঙ্গবন্ধুকে হারায়নি, হারিয়েছিল বেঁচে থাকার স্বপ্ন। আমি বাবা-মাকে হারিয়ে সারা বাংলা ঘুরে বেড়িয়েছি। মানুষের দুঃখকষ্ট দেখেছি। আমি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর অঙ্গীকার করি। আমরা সীমিত সম্পদ দিয়ে চেষ্টা করছি। ডিসেম্বরে আরও এক লাখ ঘর দেয়া হবে। সারাদেশের ভূমিহীন গৃহহীন ৪ লাখ ৪২ হাজার ৪০৮টি ঘর দিচ্ছি। নদী ভাঙনে যারা বাড়ি হারিয়েছে, তাদেরও ঘর দেয়া হবে। যাদের ভূমি আছে ঘর নেই, তাদেরও ঘর করে দেয়া হবে। সচিব এবং পুলিশ বাহিনীও ঘর তৈরি করে দিচ্ছে। অনেকের মধ্যে একটা তাগিদ তৈরি হয়েছে। দেশে যেন একজন মানুষও গৃহহীন ভূমিহীন না থাকে, সেটাই হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বস্তিতে বাস করে, তাদের জন্য ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। যে ভাড়ায় বস্তিতে থাকে, সেই ভাড়ায় ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকবে। হিজরা, বেদেসহ পিছিয়ে থাকাদের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন অসহায় শ্রেণিকে ভাতা দেয়া হচ্ছে। শেষে প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা, শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা এবং চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চারজন নির্বাহী অফিসার এবং চারজন উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বলে তাদের অনুভূতি জানতে চান। এসময় উপকারভোগীরা আবেগে কেঁদে ফেলেন এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেন, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। একজন তার বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াতও দেন। প্রধানমন্ত্রীও সুযোগ পেলে তার বাড়িতে যাবেন বলে আশ্বাস দেন।
‘মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’- প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনায় মুজিবর্ষে প্রথম পর্যায়ে দেশে ৬৬ হাজার ১৮৯টি উপকারভোগী পরিবারকে ২ শতাংশ জমিসহ গৃহ প্রদান করা হয়। তখন কিশোরগঞ্জ জেলায় ৬১৬টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। এতে পানি এবং বিদ্যুৎ সুবিধাও দেয়া হয়। এসব ঘর নির্মাণে কোন ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয় না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নেতৃত্বে একটি কমিটি আছে। তারাই জায়গা নির্ধারণ করে প্রকাশ্য প্রক্রিয়ায় উপকারভোগী নির্বাচন করেন। এরপর নিজেরা কাঁচামাল ক্রয় করে ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে দেন।
সারাদেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন ‘ক’ শ্রেণির পরিবার এবং এক থেকে ১০ শতাংশ জায়গা আছে কিন্তু গৃহ নেই, এরকম ‘খ’ শ্রেণির পরিবারের সংখ্যা নিরূপন করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, দেশে ‘ক’ শ্রেণির পরিবার আছে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি, আর ‘খ’ শ্রেণির পরিবার আছে ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি। দুই শ্রেণির মোট পরিবার সংখ্যা ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি। পর্যায়ক্রমে সবাইকেই ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে।

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়