ঢাকা, বুধবার   ২৯ জুন ২০২২ ||  আষাঢ় ১৬ ১৪২৯

শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ে চোখ বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৫০, ২৩ মে ২০২২  

বাংলাদেশ দল

বাংলাদেশ দল

শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সকাল দশটায় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া লংকানদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জিতে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেতে মরিয়া বাংলাদেশ।

জয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে টাইগারদের। শ্রীলংকাকে ৩৯৭ রানে আটকে দিয়ে জবাবে প্রথম ইনিংসে ৪৬৫ রান তুলেছিলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। এতে প্রথম ইনিংস থেকে ৬৮ রানের লিড পায় তারা। 

মন্থর পিচে টেস্টর পঞ্চম দিনে প্রথম সেশনে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের গুরুত্বপুর্ন দুই উইকেট শিকার করলে ম্যাচে কিছুটা গতি লাভ করে। বিশেষভাবে বাংলাদেশের বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে খেলতে সমস্যায় পড়েছিলো শ্রীলংকার ব্যাটাররা। 

দ্বিতীয় সেশনের মাঝামাঝিতে শ্রীলংকা ১৬১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে। এমন অবস্থায় ৯৩ রানে এগিয়ে ছিল সফরকারীরা। এরপর দিনেশ চান্ডিমাল ৩৯ ও নিরোশান ডিকবেলা ৬১ রানের দু’টি অনবদ্য ইনিংস খেলে দলকে রক্ষা করেন। 

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক জানিয়েছিলেন, জয় থেকে মাত্র ১ উইকেট দূরে ছিলেন তারা। ম্যাচের চিত্র অনুযায়ী এটা ছিল   বাংলাদেশের জন্য হতাশার। তবে দ্বিতীয় টেস্ট জিতে হতাশাকে আনন্দে পরিণত করতে দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

আজ ম্যাচ পুর্ব সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বলেন, ‘মিরপুরের উইকেটে সবসময় ফলাফল হয়। তাই এই ভেন্যু থেকে ইতিবাচক ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আমরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই উইকেটে বড় ভূমিকা থাকবে সাকিব-তাইজুলের। আশা করছি, ব্যাটাররা নিজেদের সেরা দিয়ে ম্যাচ জিততে তাদের সহায়তা করবে।’

আঙুলের ইনজুরিতে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন অফ-স্পিনার নাইম হাসান। নাইমের জায়গায় খেলতে প্রস্তুত বল হাতে অফ-স্পিন করতে পারা ও ব্যাট হাতে ভালো করার সামর্থ্য রাখা মোসাদ্দেক হোসেন। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেন নাইম। তাই নাইমের না থাকাটা, দ্বিতীয় টেস্ট জয়ের লক্ষ্যে বড় ধাক্কা বাংলাদেশের।  

একাদশে মোসাদ্দেকের অন্তুর্ভুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন মুমিনুল। তিনি বলেন, ‘ইনজুরির কারণে নাঈম না থাকায়, মোসাদ্দেকের খেলার সম্ভাবনা অনেক বেশি। সে ব্যাটিংও করতে পারে।’

ইনজুরির কারণে বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলামকেও এ ম্যাচে পাবে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশের একমাত্র ইনিংসে আঘাত পাবার পর শ্রীলংকার দ্বিতীয় ইনিংসে বল করতে পারেননি তিনি। তার পরিবর্তে সুযোগ পাবার সম্ভাবনা রয়েছে এবাদত হোসেনের। তবে দল তাকে একাদশে রাখে কি-না, সেটিই দেখার বিষয়। 

মিরপুরের ভেন্যুতে এক পেসার নিয়ে খেলার নজির রয়েছে বাংলাদেশের। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অবিস্মরনীয় জয়ের ম্যাচে এক পেসার নিয়ে খেলেছিলো টাইগাররা। 

দুই পরাশক্তির বিপক্ষে জয় পেতে স্পিন উইকেট বানিয়েছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু উপমহাদেশের দলগুলোর বিপক্ষে এমন কৌশল কাজে লাগেনি টাইগারদের। 

২০১৮ সালে এই ভেন্যুতে টেস্ট জিতেছিলো শ্রীলংকা। তবে এখানে সর্বশেষ টেস্টে পাকিস্তান ইনিংস ব্যবধানে হারিয়েছিলো টাইগারদের। এখানে টেস্ট জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজও। মিরপুর আর বাংলাদেশের জন্য পয়মন্ত নয় বলেই ইঙ্গিত রয়েছে। 

তারপরও এখানে স্পিনই মুখ্য হয়ে উঠবেবলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুমিনুল। একই সাথে মুমিনুল এটাও জানেন এই উইকেটের সুবিধা নিতে শ্রীলংকারও ভালো মানের স্পিনার রয়েছে। 

তবে চট্টগ্রামের টেস্টে লক্ষ্য করা গেছে, শ্রীলংকার চেয়ে বড় ব্যবধানেই এগিয়ে ছিলো বাংলাদেশ স্পিনাররা। যা বাংলাদেশকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে। 

এখন পর্যন্ত শ্রীলংকার বিপক্ষে ২৩টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যেকোন দেশের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট। ২৩ টেস্টের মধ্যে ১টিতে জিতেছে টাইগাররা। ১৭টিতে হেরেছে ও ৫টিতে ড্র হয়েছে।

২০০১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রথম ১২ ম্যাচেই বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতেছে শ্রীলংকা। তবে ২০১৩ সালের মার্চ থেকে ঘুড়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। দু’দলের সর্বশেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ হারে পাঁচ ম্যাচ। একমাত্র জয়টি  আসে ২০১৭ সালে  বাংলাদেশ দলের শততম টেস্টে  শ্রীলংকার মাটিতে। আর চারটিতে শ্রীলংকাকে ড্র করতে বাধ্য করেছিলো টাইগাররা।

বাংলাদেশ দল : মুমিনুল হক (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, লিটন দাস, ইয়াসির আলী চৌধুরী, তাইজুল ইসলাম, এবাদত হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, কাজী নুরুল হাসান সোহান, রেজাউর রহমান রাজা, শহিদুল ইসলাম ও মোসাদ্দেক হোসেন।

শ্রীলংকা দল : দিমুথ করুনারত্নে (অধিনায়ক), কামিল মিশারা, ওশাদা ফার্নান্দো, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, কুশল মেন্ডিস, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, কামিন্দু মেন্ডিস, নিরোশান ডিকওয়েলা, দীনেশ চান্দিমাল, রমেশ মেন্ডিস, চামিকা করুনারত্নে, সুনিন্দা লক্ষণ, কাসুন রাজিথা, বিশ্ব ফার্নান্দো, আসিথা ফার্নান্দো, দিলশান মাদুশঙ্কা, প্রবীণ জয়াবিক্রমা ও লাসিথ এম্বুলদেনিয়া।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়