ঢাকা, সোমবার   ১৮ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ২ ১৪২৮

বিপর্যস্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন পরীমনি

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৪১, ১৬ আগস্ট ২০২১  

পরীমনি

পরীমনি

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি বিপর্যস্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, চিকিৎসার স্বার্থে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া আবশ্যক বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মজিবুর রহমান।

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে পরীমনির জামিন আবেদনে এসব উল্লেখ করেন। এদিকে পরীমনির জামিন বিষয়ে আগামীকাল বুধবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

পরীমনির জামিন আবেদনে বলা হয়, আসামি একজন মহিলা, তাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৪৭(১) (গ) মোতাবেক জামিন পেতে পারে। জামিন পেলে আসামি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করবেন না এবং আদালতের নির্দেশ মতে জামিনদার প্রদান করবেন। আসামি দীর্ঘ ৬ দিন রিমান্ডে থাকাসহ প্রায় ২৬ ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে থাকলেও মামলা সংক্রান্তে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আসামি ভার্টিগো (মাথা ঘোড়া) এবং ‘প্যানিক অ্যাটাক’ এর রোগী, দীর্ঘসময় পুলিশ কাস্টডিতে থেকে বিপর্যস্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার স্বার্থে দরখাস্তকারী আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া আবশ্যক। আসামির দখল ও নিয়ন্ত্রণ থেকে মদ ও মাদক উদ্ধার হয়নি। আসামি নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার বিধায় আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া আবশ্যক।

আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, আসামি পরীমনি একজন প্রথম সারির চিত্রনায়িকা। তিনি ‘ফোর্বস ম্যাগাজিন’ ডিজিটাল তারকা হিসেবে বিশ্বের ১০০ জনের মধ্যে আসামির নাম অন্তর্ভুক্ত। আসামি জেলহাজতে আটক থাকলে চলচ্চিত্রের অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানি ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে শিল্পী হিসেবে চুক্তিগুলোর  শর্ত লঙ্ঘিত হবে। সম্প্রতি ‘প্রীতিলতা’ নামক সরকারি সিনেমার জন্য ফটোশুট হয়েছে। ফলে আসামিকে যেকোনো শর্তে জামিনে মুক্তি দেওয়া আবশ্যক। অন্যথায় ন্যায় বিচার পরাভূত হবে।

গত ১৩ আগস্ট দ্বিতীয় দফার রিমান্ড শেষে পরীমনি ও তার সহযোগী দিপুকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা। এ সময় আসামি পক্ষে তাদের আইনজীবী মজিবুর রহমান জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

গত ৪ আগস্ট সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‌্যাব। অভিযানে নতুন মাদক এলএসডি, মদ ও আইস উদ্ধার করা হয়। তার ড্রয়িংরুমের কাভার্ড, শোকেস, ডাইনিংরুম, বেডরুমের সাইড টেবিল ও টয়লেট থেকে বিপুল পরিমাণ মদের বোতল উদ্ধার করা হয়।

এরপর রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরীমনিকে র‌্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব। পরদিন গত ৫ আগস্ট বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে র‌্যাব সদর দফতর থেকে পরীমনি, রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়৷ 
মামলার পর রাত সাড়ে ৮টায় পরীমনি ও তার সহযোগীকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর বনানী থানার মামলার তাদের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একইদিন ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদের আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন। এরপর সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলায় গত ১০ আগস্ট পরীমনি ও তার সহযোগী দিপুর দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলার সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদক সেবন করতেন। এমনকি ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন তিনি। এজন্য বাসায় একটি মিনি বার তৈরি করেন। তিনি বাসায় নিয়মিত মদের পার্টি করতেন। আর চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরো অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকের সরবরাহ করত এবং পার্টিতে অংশ নিতো।

পরীমনি ২০১৪ সালে সিনেমা জগতে আসেন। এ পর্যন্ত ৩০টি সিনেমা ও ৫/৭টি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন। প্রযোজক রাজ তাকে পিরোজপুর থেকে ঢাকায় সিনেমা জগতে নিয়ে আসে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়