ঢাকা, সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৯

ভুঁইফোড় ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে তাসনিম

রাজনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:১৭, ৬ অক্টোবর ২০২২  

তাসনিম খলিল

তাসনিম খলিল

তাসনিম খলিল। নিজেকে সাংবাদিক বলে জাহির করলেও আদতে তিনি একজন ভয়ঙ্কর অপরাধী। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তাসনিম খলিলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্য শুরু করে বাংলাদেশের আদালত। শুধু বাংলাদেশ নয়, সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমেও তাসনিম খলিলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

নিঃসন্দেহে একজন সাজা প্রাপ্ত আসামীকে সাংবাদিক বলা সাংবাদিকতার ভাষায় অবান্তর?

বিভিন্ন ধরনের ভুঁইফোড় এবং বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে তিনি নিজেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। মানবাধিকার নিয়ে তিনি কাজ করেন বলেও প্রচার করেন।আর এ জন্য তিনি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছেন ‘নেত্র নিউজ’কে। এই ‘নেত্র নিউজ’ এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তিনি বিভিন্ন ধরনের কল্পকাহিনী সাজিয়ে নিজেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। আর বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভুয়া তথ্য প্রচার করেন।

আসলে কি তিনি অনুসন্ধানমূলক সংবাদ সংগ্রহ ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন? হ্যাঁ, করেন। তবে সেটা বিএনপি-জামায়াতের অধিকার নিয়ে। আসুন তার কিছু অনুসন্ধানের নমুনা দেখি।

বিএনপি-জামায়াত আমলে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, ১৭ আগস্টে ৬৪ জেলায় বোমা হামলা কিংবা হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে চরম নৃশংস ঘটনা, যা নিয়ে তাসনিম খলিল গংকে একটি কথাও বলতে দেখা যায়নি। তাছাড়া, তার পৈত্রিক নিবাস সিলেটের শাহজালাল (রঃ) এর মাজারে বিএনপি-জামায়াত আমলে তৎকালীন বাংলাদেশের ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর বোমা হামলার বিষয়েও তিনি নীরব থেকেছেন। এইসব বোমা হামলায় নিহতদের আত্মীয়-স্বজনের কান্নার কি কোন মূল্য নেই তাসনিমদের কাছে?

তার ফেসবুক, ইউটিউব বা নেত্র নিউজ ঘাঁটলে দেখা যায়, এই প্রসঙ্গসমূহ তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন। তাহলে তিনি কিসের অনুসন্ধানী সাংবাদিক? কিসের মানবাধিকার নিয়ে তিনি কাজ করেন? উত্তর একটিই, তাহলো তাসনিম একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নে নিয়োজিত। তার ইউটিউব কিংবা ফেসবুকের সকল পোস্ট কিংবা নেত্র নিউজ থেকে প্রচারিত প্রচারণাসমূহ সরাসরি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী। আর এজন্য তিনি জোট করেছেন আরেক দেশবিরোধী এজেন্ট ডেভিড বার্গম্যানের সাথে, যিনি বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধী বিচারের শুরু থেকে বিরোধিতা করে আসছেন।

তাসনিম খলিল তার দেশবিরোধী প্রোপাগাণ্ডা এখনো অব্যাহত রেখেছেন মূলত বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশ্য সাধনে। তা না হলে তিনি অন্তত জামায়াতের এজেন্ট ডেভিড বার্গম্যান ও বিএনপির এজেন্ট হাসিনুর রহমানের সঙ্গে হাত মেলাতেন না। বিএনপি চায়, এসব দেশবিরোধী মতাদর্শের মানুষকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে।

তবে বিএনপি জামায়াত ভুলে যায় তাদের শাসনামলে গ্রেনেড হামলা, বোমা হামলা ছিলো নিত্য দিনের ঘটনা। নিঃসন্দেহে মানুষ বোমা হামলার বিভিষিকা ভুলে তাসনিম খলিলের রচিত কল্পিত কাহিনীতে বিনোদিত হতে পারে, তবে এসব নাটককে বিশ্বাস করতে পারে না।

ইতিহাস জানতে হবে। ষড়যন্ত্র তৈরি করার আগে প্রেক্ষাপট বুঝতে হবে। আর কত আমরা এ ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহী ভণ্ড সাংবাদিককে প্রশ্রয় দিব? এবার সময় এসেছে তাসনিম খলিলের মত ভণ্ড অনুসন্ধানী সাংবাদিককে বর্জন করার, রুখে দাঁড়াবার।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়