ঢাকা, বুধবার   ২৯ জুন ২০২২ ||  আষাঢ় ১৬ ১৪২৯

থাইরয়েড সমস্যায় ভোগার আশঙ্কা বেশি ২০-৩০ বছর বয়সীদের

হেলথ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৫, ২৬ মে ২০২২  

থাইরয়েড দিবস উপলক্ষে র‌্যালি

থাইরয়েড দিবস উপলক্ষে র‌্যালি

দেশের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে। এদের অর্ধেকের বেশি জানে না, তাদের এই সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে ২০-৩০ বছর বয়সীদের এই থাইরয়েড সমস্যা ভোগার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

গতকাল বুধবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান বক্তারা। বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি (বিইএস) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিইএস’র প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ ও নারীদের মধ্যে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হারে ‘হাইপোথাইরয়েডিজম’ থাকতে পারে। এছাড়া প্রায় ৭ শতাংশ নারী ও পুরুষ সাব-ক্লিনিক্যাল ‘হাইপোথাইরয়েডিজমে’ ভুগে থাকেন। নবজাতক শিশুদেরও থাইরয়েডের হরমোন ঘাটতি জনিত সমস্যা হতে পারে। তার হার হতে পারে ১০ হাজার জীবিত নবজাতকের মধ্যে ২-৮ শতাংশ।

আলোচকরা জানান, বাড়ন্ত শিশুরাও থাইরয়েড হরমোন ঘাটতিতে ভুগতে পারে। এসময় শিশুদের দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। পরবর্তী সময়ে দৈহিক বৃদ্ধির সমতা আনয়ন করা গেলেও মেধার উন্নতি করা সম্ভব হয় না।

বক্তারা আরও বলেন, থাইরয়েড সমস্যার সব ধরনকে একসঙ্গে হিসাব করলে তা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ ভাগের কাছাকাছি হবে। ভারতের অবস্থা অনেকটা এমনই। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের প্রায় দুই শতাংশ এবং পুরুষের প্রায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হাইপারথাইরয়েডিজমে ভোগে।

বিইএস জনায়, গলার সামনের দিকে থাইরয়েড গ্রন্থি অবস্থিত। এটি দেখতে প্রজাপতি সাদৃশ্য এবং এটি ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালীকে পেঁচিয়ে থাকে। যদিও এটি একটি ছোট গ্রন্থি, কিন্তু এর কার্যকারিতা ব্যাপক। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন মানব পরিপাক প্রক্রিয়ায় অন্যতম ভূমিকা পালন করে।

ভ্রূণ অবস্থা থেকে আমৃত্যু থাইরয়েড হরমোনের প্রয়োজন অপরিহার্য। এ হরমোনের তারতম্যের জন্য শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি, শরীর মোটা হওয়া, ক্ষয় হওয়া, নারীদের বিভিন্ন সমস্যা, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, হার্টের সমস্যা এবং চোখ ভয়ঙ্করভাবে বড় হয়ে যেতে পারে।

বন্ধ্যত্বের অন্যতম কারণ হিসেবে থাইরয়েড হরমোনের তারতম্যকে দায়ী করা হয়। শারীরিক কার্যক্ষমতা ঠিক রাখার জন্য নির্দিষ্ট মাত্রায় এ হরমোন শরীরে থাকা জরুরি।

চিকিৎসকরা বলছেন, থাইরয়েড ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। বাংলাদেশের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও গলগণ্ড রোগীদের ৪ দশমিক ৫ শতাংশের কাছাকাছি থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বেশিরভাগ স্কুলগামী শিশু এবং গর্ভবতী মায়েদের আয়োডিনের অভাব রয়েছে। আয়োডিন শরীরে অতি প্রয়োজনীয় থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ পৃথিবীতে এখনও দুই হাজার মিলিয়ন লোক আয়োডিনের অভাবে ভুগছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব সাইফুল হাসান বাদল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, বিইএস প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান, বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. এহতেসামুল হক চৌধুরী, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ, বিইএস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এস এম আশরাফুজ্জামান প্রমুখ।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়