ঢাকা, শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৮

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে হাঁটছেন ইলন মাস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:০৪, ২৩ অক্টোবর ২০২১  

ইলন মাস্ক

ইলন মাস্ক

বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হলেন ইলন মাস্ক। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার মুনাফার রেকর্ড ভাগ্য খুলে দিয়েছে ইলন মাস্কের। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস এক্সও ব্যবসাসফল। বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে হাঁটছেন এই বিলিওনিয়ার। বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলি দিয়েছে এমনই পূর্বাভাস। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানি কয়েক বছরেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে।

১৯১৬ সালে বিশ্বের প্রথম বিলিয়নিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন জন ডি রকফেলার। এরপর পেরিয়ে গেছে শত শত বছর। বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। এমনকি এক্সক্লুসিভ ১০০ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবেও আছেন বেশ কয়েকজন। করোনা সংকটের মধ্যেও বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদ বেড়েছে হু হু করে। যদিও সেটি বিলিয়ন ডলারের সীমা পার করেনি। তবে এবার বিশ্ব ট্রিলিয়ন বা লাখো কোটি ডলার সম্পদের মালিক পেতে যাচ্ছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন একটি বিনিয়োগ ব্যাংক। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হবেন ইলন মাস্ক।

মরগান স্ট্যানলি বলছে, স্পেস কিংবা টেসলা, দুট কোম্পানিই বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত। তবে বিনিয়োগ ব্যাংকটি বলছে, স্পেস এক্স বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল কোম্পানি। কোম্পানিটি স্টারশিপের বারবার ব্যবহার করা যায় এমন রকেটগুলো দিয়ে ভবিষ্যতে মানুষের  চাঁদ এবং মঙ্গলে নিয়ে যাবে। ইতিহাস বদলে দেবে স্পেস এক্স। ভবিষ্যতে এই কোম্পানির বাজারমূল্য হবে ২০ হাজার কোটি ডলার এবং চলতি মাসেই এই কোম্পানির বাজারমূল্য দাঁড়ায় ১০ হাজার কোটি ডলার। ইন্টারনেট ফার্ম বাইটড্যান্সের পর স্পেস এক্সই বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চমূল্যের কোম্পানি।

মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষক অ্যাডাম জোনস বলেন, মাস্কের বর্তমান সম্পদের বেশির ভাগই এসেছে টেসলা থেকে। তবে এবার তিনি মহাকাশ অনুসন্ধান ব্যবসা থেকে অনেক বেশি আয় করতে চলেছেন।

তিনি বলেন, একাধিক গ্রাহক জানিয়েছেন, ইলন মাস্ক প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হতে যাচ্ছেন। তবে টেসলা নয়, বরং স্পেসএক্স লাখ কোটি ডলারের এ সম্পদ গড়ে দেবে তাকে। যে কোনো শিল্পের মধ্যে স্পেসএক্স বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সংস্থা হবে বলেও মনে করেন তিনি।

‘রকেটগতিতে ছুটছে স্পেসএক্স, কে তাদের ধরতে পারে’ শিরোনামে লেখা চিরকুটে জোনস বলেন, স্পেসএক্সের স্টারশিপ এমন একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট, যা চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে মানুষ এবং মালামাল নিয়ে যেতে পারে। এটি মহাকাশ শিল্প নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম।

তিনি বলেন, একজন গ্রাহক বলেছিলেন, স্টারশিপ আসার আগে মহাকাশ সম্পর্কে কথা বলা অনেকটা গুগল আসার আগে ইন্টারনেট নিয়ে কথা বলার মতো। প্রতিনিয়ত সংস্থাটির দাম বাড়ছে। মহাকাশ অবকাঠামো, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ও গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানসহ সম্ভাব্য শিল্প নিয়ে নতুন নতুন আশা দেখাচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স  । সংস্থাটি সম্প্রতি বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশে পর্যটনও শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে মহাকাশে পর্যটনের প্রতিযোগিতায় বিলিয়নিয়ার জেফ বেজোস ও রিচার্ড ব্র্যানসনের সঙ্গে নাম লিখিয়েছেন ইলন মাস্ক।

মাস্ক স্পেসএক্সের প্রায় ৪৮ শতাংশের মালিক। গত জানুয়ারিতে বিশ্বের শীর্ষ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে পেছনে ফেলে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনীর মুকুট জিতেছিলেন। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কাগজে-কলমে তার সম্পদের পরিমাণ ২৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার। মাস্কের সম্পদের এ পরিমাণ বেজোসের চেয়ে ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার বেশি।

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে এর আগেও অনেক পূর্বাভাসে ইলন মাস্কের নাম এসেছে। যদিও সেটি মূলত টেসলার শেয়ার পারফরম্যান্সের কারণে। গত বছর টেসলার শেয়ারদরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছিল, যা এখনো চলছে। টেসলা কেবল গত সোমবারই (১৮ অক্টোবর) ইলন মাস্কের সম্পদে ৬৬০ কোটি ডলার যুক্ত করেছে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়