ঢাকা, বুধবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯

ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে শোভা ছড়াচ্ছে রেইন লিলি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫০, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২  

ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে শোভা ছড়াচ্ছে রেইন লিলি

ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে শোভা ছড়াচ্ছে রেইন লিলি

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন হল। এটি অন্যান্য হলের চেয়ে বৈচিত্র্যময় ও ঐতিহাসিক। এর অবকাঠামো ও বাগানের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। হলের ভেতরের দুপাশে বিস্তৃত মাঠ। মাঠের চারপাশে ফোটা বাহারি রঙের ফুল। ঋতুভেদে শোভা পায় রেইন লিলি, গোলাপ, ছোট কাশফুল, কাঠগোলাপ প্রভৃতি।

বর্তমানে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে ঘন সবুজ ঘাসের মাথায় ফুটে আছে হলুদ রঙের ফুল। পুরো মাঠ হলুদ রঙে ছেয়ে গেছে, ছড়িয়ে পড়েছে তার আবেশ। বিষয়টি ফুলপ্রেমীদের চোখ এড়ানো দায়। কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও তারা থামছেন। উপভোগ করছেন সৌন্দর্য।

বলছিলাম রেইন লিলির কথা। হলের মাঠে হলুদ ও গোলাপি দুই ধরনের রেইন লিলি আছে। এর মধ্যে হলুদ রেইন লিলির সংখ্যা বেশি। এটি হলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। শরৎ ও বর্ষার প্রকৃতিতে এ ফুল হাজির হয় বাহারি রূপে। এবারও যেন এটি রূপের পসরা সাজিয়ে বসেছে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে। হলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে বহু বর্ষজীবী এ ফুল।

রেইন লিলির সৌন্দর্যের শোভা ছড়াচ্ছে হলের শিক্ষার্থীদের মাঝেও। এর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করে বিমোহিত হচ্ছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে নিজেদের অনুভূতিও প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। তা দেখে ক্যাম্পাসের অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে আমেজ। বাস্তবে উপভোগ করতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন অনেকে।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আনারুল ইসলাম  বলেন, কাক ডাকা ভোরে ঘুম ভেঙে বারান্দায় দাঁড়িয়ে যখন হলের মাঠের অপরূপ সৌন্দর্য চোখে পড়ে তখন নানা প্রতিকূলতায় বিষাদময় হৃদয়ও শীতলতা অনুভব করে। ইট-পাথরের দালানে ভরপুর চারপাশ, তার মাঝে প্রকৃতির এ প্রশান্তি আমাদের মনকে উৎফুল্ল করে। আবাসন ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য সমস্যার বিপরীতে প্রকৃতির আপন মহিমা আমাদের আকৃষ্ট করে রাখে। শহরেও পাই গ্রামীণ প্রকৃতির অনুভূতি।

হলের অপর আবাসিক শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন, গেল কয়েক দিন ধরে মোটামুটি ভালোই বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পর থেকে মাঠে সামান্য কিছু হলুদ ফুল ফুটতে দেখা যায়। তবে, গত কয়েক দিন ধরে এর পরিমাণ অনেক বেড়েছে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী এ হল এমনিতেই নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর। রেইন লিলি সেখানে যেন ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। সকালে ভেজা ঘাসে এ ফুলের সৌন্দর্য একটু অন্য রকম লাগে। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, ঢাকা শহরের আর কোথাও এত রেইন লিলি একসঙ্গে দেখা যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীসহ শহরের অনেক ফুলপ্রেমী সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের রেইন লিলির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন। তারাও বিমোহিত হচ্ছেন। নিজেরা ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে শেয়ার করছেন। অনেকে আবার ফুলের বীজ ও চারা সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন।

রেইন লিলির এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসএম হলে ছুটে এসেছেন হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের শিক্ষার্থী আবু জাফর। জানতে চাইলে ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, ফেসবুকে এসএম হলে রেইন লিলির এমন অপরূপ সৌন্দর্যের বেশ কয়েকটা ছবি ও ভিডিও দেখেছি। তখনই ইচ্ছা জাগল নিজ চোখে দেখার। আর দেখতে এসে মুগ্ধ হয়েছি।

হলের শোভাবর্ধনের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ হালিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রতি বছরই হল প্রশাসনের নির্দেশে আমরা হলের শোভাবর্ধনের জন্য নানা রকম ফুলের চারা রোপণ করি। তবে, এ ফুল লাগানো হয়নি। সম্ভবত মাঠে মাটি ভরাট করার সময় এর বংশ বিস্তার হয়েছে। আমাদের নিজেদের কাছেও বিষয়টা ভালো লাগছে।

রেইন লিলি ফুল

এটি Amaryllidaceae পরিবারের সদস্য। আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। বাংলাদেশে যত ধরনের লিলি ফুল দেখা যায় তার বেশির ভাগই বিদেশি প্রজাতির। আমাদের দেশে গরম, শুষ্ক দিনগুলো শেষ হলে যখন বৃষ্টি নামে, তখনই ফোটে ফুলগুলো। বর্ষার আগমনে দারুণ মিষ্টি রঙ আর রূপ নিয়ে নিজেকে প্রকাশ করে। তাই বৃষ্টির নামেই তার নাম। তবে, বর্ষার ফুল হলেও কখনও কখনও বর্ষার আগেই গ্রীষ্ম থেকে শুরু করে শরৎ কাল পর্যন্ত ফোটা অব্যাহত থাকে। ফুলের আয়ুষ্কাল এক থেকে দুই দিন হয়ে থাকে।

ফুলের পাপড়িগুলো সন্ধ্যায় বুজে যায় এবং পরের দিন পুনরায় জেগে ওঠে। বীজ ও গাছের গোঁড়া থেকে নতুন গাছের জন্ম হয়। ঊর্ধ্বমুখী এ ফুলের স্টিক মাটি ফুঁড়ে বের হয়। পাপড়ি সংখ্যা পাঁচ থেকে সাতটি, মাঝে পরাগদণ্ড অবস্থিত। ফুল গন্ধহীন। বহু বর্ষজীবী রেইন লিলি গাছ উচ্চতায় প্রায় ছয় থেকে আট ইঞ্চি হয়। গাছের পাতা গাঢ় সবুজ ও চিরল, লম্বায় প্রায় ছয় ইঞ্চি। বাগানের শোভাবর্ধনে এ শৌখিন ফুলের জুড়ি মেলা ভার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা ঢাকা পোস্টকে বলেন, রেইন লিলি সাধারণত বর্ষাকালে ফোটে। বছরের অন্যান্য সময়ে অল্প পরিমাণ লক্ষ্য করা যায়। ভারী বৃষ্টির পর একে সজীব ও প্রফুল্ল দেখায়। বাংলাদেশে সাদা, হলুদ ও গোলাপি রঙের ফুল ফুটতে দেখা যায়। বিশেষ করে রাস্তা বা বাগানের দুই পাশে। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের মাঠজুড়ে এ ফুল দেখা যাচ্ছে। খুবই সুন্দর দেখাচ্ছে। কার্জন হলেও এ ফুল চোখে পড়ে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়