ঢাকা, রোববার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৯

খাদ্যে দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ, পাকিস্তান কি শ্রীলংকার পথে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:১৯, ৮ আগস্ট ২০২২  

খাদ্যে দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ, পাকিস্তান কি শ্রীলংকার পথে?

খাদ্যে দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ, পাকিস্তান কি শ্রীলংকার পথে?

করোনা আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বিপর্যস্ত বিশ্বের অর্থনীতি। আর তার প্রথম ধাক্কা লাগে শ্রীলংকায়। এবার সেই পথে হাঁটার সম্ভাবনায় রয়েছে পাকিস্তান! দেশটিতে খাদ্য সংকট দিন দিন বাড়ছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, পাকিস্তানে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো খাদ্য ও ঋণ সংকটে ভুগছে। গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খাদ্য ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ। এছাড়া মুদ্রাস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘর ছুঁয়েছে পাকিস্তানসহ নিম্ন-আয়ের অনেক দেশ। মধ্য-আয়ের সব দেশেই খাদ্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে কৃষিপণ্যের বৈশ্বিক মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। এদিকে, দুই কোটি টন গম ছাড় করতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে।

তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে গত মাসে ঐ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী পণ্য বহনকারী সব কনটেইনার জাহাজ কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই ইউক্রেনীয় বন্দর ত্যাগ করতে পারছে। যা বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা কমিয়ে আনতে সহায়তা করেছে।

বিশ্বব্যাংকের এ প্রতিবেদনে গত জুন মাস থেকে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের দামে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। অন্যান্য কৃষিপণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় নিম্নমুখী রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব ইউরোপের চলমান যুদ্ধের কারণে অনেক দেশকে তাদের বার্ষিক জাতীয় আয়ের ১ শতাংশেরও বেশি অর্থ খাবারের পেছনে ব্যয় করতে হবে। এ সময়ে অনেক দেশ আর্থিকপ্রভাব মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হবেন এবং পুরোপুরি ঋণ সংকটে ডুবতে পারে।

দুই বছর আগে বৈরুতের খাদ্যশস্যের গুদামে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দেশটির ৬৮ লাখ মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য মজুত রাখা ভুট্টা ও গম সংরক্ষণ ও বিতরণের ক্ষমতা একেবারে ধ্বংস হয়ে যায়। বিশ্বব্যাংক বলছে, বিস্ফোরণের পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ খাদ্য সংকটে রয়েছে লেবানন।

জিম্বাবুয়েতে ২৫৫ শতাংশ এবং ভেনেজুয়েলায় ১৫৫ শতাংশে পৌঁছানোর আগে গত জুনে লেবাননে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৩৩২ শতাংশ ছুঁয়েছে। শীর্ষ খাদ্য মূল্যস্ফীতির হারের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে তুরস্ক। দেশটিতে বর্তমানে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত কয়েক মাসে খাদ্যের দামের বিস্ময় জাগানিয়া বৃদ্ধি বিশ্বের বেশিরভাগ অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে; যার মধ্যে তুলনামূলক উচ্চ আয়ের দেশগুলোও রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে উন্নত দেশগুলোও ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও প্রায় ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ খাদ্য মূল্যস্ফীতির সম্মুখীন হয়েছে। আর এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার কিছু দেশ।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়