ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

আমি পদ ছাড়লে যদি দলের ভালো হয়, তাতে আমি রাজি : তারেক জিয়া

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৩, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

তারেক জিয়া

তারেক জিয়া

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির মধ্য থেকে পরিবর্তনের আওয়াজ এসেছিল। সে সময় দলের সিনিয়র নেতারা নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আহ্বানে সাড়া দেননি লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। এবার তারেক জিয়াকেই নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ডাক এসেছে। এটা কি আদৌ সম্ভব?

গত শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির ব্যর্থতা, আন্দোলন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের হতাশা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটেই করণীয় নিয়ে আলোচনা হয় বিএনপিতে। যেখানে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তারেক রহমান। ভিডিও কনফারেন্সে বলেছেন, ‘আমি পদ ছাড়লে যদি দলের ভালো হয়, তাতে আমি রাজি।’

তবে তার এই দল ত্যাগ মানে পুরোপুরিভাবে দলের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ নয়, দলে তিনি উপদেষ্টা বা অন্য কোন পদে থাকবেন। তারেক জিয়া এটাও বলেছেন যে, তার পিতার আদর্শে বিএনপি গড়ে উঠেছে। কাজেই এই দলের সঙ্গে তার সম্পর্ক রক্তের। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্রগুলো বলছে, এ ব্যাপারে খুব শিগগিরই বিএনপির মধ্য থেকে নাটকীয় ঘোষণা আসতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের দায়িত্ব ছাড়লেও দলের চাবি থাকবে তারেক রহমানের হাতেই। তিনিই দল চালাবেন। বর্তমানে সময়ে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য তারেককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির নেতৃত্ব ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিদেশি বন্ধুরা।

বিএনপির অন্যতম পরামর্শক, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা গণস্বাস্থ্যের প্রায়ত ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ সর্বপ্রথম, তারেককে বিএনপির পদ ছাড়ার প্রস্তাব করেছিলেন। এই প্রস্তাব সেই সময় বিএনপিতে তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছিল। বিএনপির অনেক নেতাই এর প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এটি ছাড়া বিএনপির এগিয়ে যাওয়ার আর কোনো পথ নেই।

অন্যদিকে তারেকবিরোধী নেতারা বলছেন, তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে দেশে নেই। ফলে বাংলাদেশের পরিবর্তিত বাস্তবতা সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। কোন নেতাকর্মী কি করছেন, সে সম্পর্কেও লন্ডনে বসে পর্যাপ্ত এবং সঠিক ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়। যার ফলে তিনি একের পর এক ভুল করছেন। বিভিন্ন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রায়ই পক্ষপাতিত্ব এবং অযোগ্যদের দায়িত্ব দিচ্ছেন। বিএনপিকে তারেকের কর্তৃত্বমুক্ত করতে পারলে আন্তর্জাতিকভাবেও ভালো ফল পাওয়া যাবে। কারণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ভাবমূর্তি ভালো নয়। সবাই তাতে দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে চেনে। তাই তারেকমুক্ত বিএনপি দেখাতে পারে নতুন দিশা।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়