ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ১ ১৪৩১

কে এই ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:০১, ১৯ জুলাই ২০২৩  

কে এই ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী?

কে এই ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী?

১৭ জুলাই ঢাকা-১৭ আসনের উপ নির্বাচনের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী নামে এক ব্যক্তির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি- যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকীর পুরো নাম চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী। দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াতের প্রতিনিধি হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। তার বাবা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী ছিলেন ১৫ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর। বিএনপি এবং যুদ্ধাপরাধীদের সহচার্যেই তার বেড়ে ওঠা। মূলত, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ক্ষেপিয়ে তুলতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।

চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর জৈষ্ঠ্য পুত্র। গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর তাদের স্থায়ী নিবাস। এলাকায় পরিবারটি জমিদার পরিবার হিসেবে পরিচিত। কথিত আছে, তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী নিজেকে হযরত আবু সিদ্দিক (রা:) এর বংশধর হিসেবে দাবি করেন।

চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী, পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। এক সময় প্রবাসী নেদারল্যান্ডে থাকতেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম দিকে বিএনপি থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এবং এতে তার পিতার সমর্থন ছিল। কিন্তু তিনি দল থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অর্থদাবির অভিযোগ এনেছিলেন। এ ঘটনায় তার পিতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। যদিও ২০১৮ সালে আবার তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী একাধিক নামে ফেসবুক ব্যবহার করেন। বর্তমান সরকার প্রধান জননেত্রী শেখ হাসনিা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে প্রায়শই অশালীন ও আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেন। ২০১৭ সালে এমনই এক ঘটানায় আইসিটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ইরাদ। তার ছোট ভাই ব্যারিস্টার চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী গাজীপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। পারিবারিকভাবে তারা সবাই বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী নিয়ে মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিও প্রচার করেছেন তিনি। তার উদ্দেশ্য- সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবহিনীকে ক্ষেপিয়ে তোলা।

বিজ্ঞজনরা মনে করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়